আমি তোমাকে চেয়েছিলাম প্রার্থনার মতো—
শব্দহীন, গভীর, অবিরাম।
আমার সমস্ত দিনলিপির ফাঁকে ফাঁকে
তোমার নাম লিখে রেখেছিলাম
অদৃশ্য কালি দিয়ে।
তবুও কেনো,
নিয়তির পাতায় তোমার পাশে
আমার নামটা লেখা হলো না?
আমি জানতাম—
সব ভালোবাসা প্রাপ্তির জন্য হয় না।
কিছু ভালোবাসা জন্মায়
শুধু হারানোর জন্য,
শুধু সহ্য করার জন্য।
তবুও আমি বোকামির মতো ভেবেছিলাম—
এই একবার হয়তো
নিয়ম ভাঙবে ঈশ্বর।
তুমি চলে গেলে নিঃশব্দে,
কোনো বিদায়ের বাক্য না রেখে।
আমার ভেতর তখন
একটা সভ্যতার পতন হলো—
শব্দ ভেঙে গেল,
বিশ্বাস ধ্বসে পড়ল,
আর হৃদয়টা দাঁড়িয়ে রইল
ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে।
আজও আমি প্রশ্ন করি না—
তুমি কেনো চলে গেলে।
আমি শুধু নিজেকেই জিজ্ঞেস করি—
আমি যদি এতটা তোমার হতে পারি,
তুমি কেনো একটুখানিও
আমার হলে না?
এই প্রশ্নটাই আমার শাস্তি।
এই প্রশ্নটাই আমার কবিতা।
আর এই প্রশ্নের ভার নিয়েই
আমি প্রতিদিন বেঁচে থাকি—
একজন মানুষ হয়ে নয়,
একটা অপূর্ণ ভালোবাসা হয়ে।